হাওজা নিউজ এজেন্সি: মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন,
کُلُوا مِمَّا رَزَقَکُمُ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّیْطَانِ
“আল্লাহ তোমাদের যে রিজিক দিয়েছেন, তা থেকে আহার করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না।” (সূরা আনআম, আয়াত: ১৪২)
আপনি যদি কাউকে নিজের দস্তরখানে বসান, তাকে খাবার-পানি দেন, ভালোবাসা ও অনুগ্রহ করেন এবং সম্মান ও মর্যাদা দেন; কিন্তু সে আপনার এসব অনুগ্রহ পাওয়ার পর সবকিছু ভুলে যায় এবং জেনেশুনে আপনার শত্রুর সঙ্গে হাত মেলায়—তাহলে তার এমন আচরণকে আপনি কীভাবে দেখবেন?
মানুষের স্বাভাবিক বিবেচনায় এমন আচরণ অকৃতজ্ঞতা, উপকার অস্বীকার ও নেমকহারামির পরিচায়ক। সাধারণ পার্থিব সম্পর্কের ক্ষেত্রেও মানুষ এমন আচরণ পছন্দ করে না। কেউ যখন অন্যের ভালোবাসা ও অনুগ্রহ লাভ করে, তখন অন্তত সেই অনুগ্রহের মূল্যায়ন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা।
কিন্তু এই দস্তরখানের মালিক যদি হন মহান আল্লাহ—যিনি আমাদের শুধু একবেলার খাবারই দেননি; বরং আমাদের সমগ্র অস্তিত্বই দান করেছেন—তাহলে তাঁর নিয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞতার বিষয়টি আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করা প্রয়োজন।
আমরা প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহর অনুগ্রহের দস্তরখানে বসে আছি, যদিও অনেক সময় তা উপলব্ধি করি না। আমরা যে খাবার খাই, যে পানি পান করি, যে বাতাসে শ্বাস নিই, যে আলো দেখি, যে শক্তি দিয়ে চলাফেরা করি এবং যে বুদ্ধি দিয়ে চিন্তা করি—সবই তাঁর দয়া ও অনুগ্রহের নিদর্শন।
তাই প্রত্যেক সচেতন ও কৃতজ্ঞ মানুষের উচিত নিজেকে প্রশ্ন করা—“সত্যিই, এই দস্তরখানের মালিকের দেওয়া নিয়ামতগুলো দিয়ে আমি কী করছি?” আমি কি সেগুলো এমন পথে ব্যবহার করছি, যা তিনি পছন্দ করেন? নাকি এমন কাজে ব্যয় করছি, যা তাঁর ইচ্ছার পরিপন্থী?
আলোচ্য আয়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—শয়তান মানুষকে এক মুহূর্তে আল্লাহর আনুগত্য থেকে বিচ্যুত করে না। এজন্যই আল্লাহ বলেন,
وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّیْطَانِ»
“শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না।”
একটি ক্ষণিকের দৃষ্টি, সামান্য একটি অজুহাত, আপাতদৃষ্টিতে তুচ্ছ একটি মিথ্যা, সন্দেহজনক একটি লোকমা কিংবা মুহূর্তের অসতর্কতা—যাকে মানুষ তেমন গুরুত্ব দেয় না—এসবই এমন একটি পথের সূচনা করতে পারে, যার পরিণতিতে মানুষ ধীরে ধীরে আল্লাহ থেকে দূরে সরে যেতে পারে।
তাই একজন মুমিনের উচিত সর্বদা সতর্ক থাকা, যাতে আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতগুলো তাঁর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম হওয়ার পরিবর্তে শয়তানের পথে চলার উপকরণে পরিণত না হয়।
অতএব, মানুষ যদি সবসময় এই সত্যটি স্মরণে রাখে—“আমি আল্লাহর অতিথি; তাই তাঁর দেওয়া রিজিক ভোগ করে তাঁর শত্রুর আহ্বানে সাড়া দেওয়া আমার জন্য সমীচীন নয়”—তাহলে তা তার জীবনকে কৃতজ্ঞতা, আনুগত্য ও আত্মসচেতনতার পথে পরিচালিত করতে পারে।
প্রস্তুতকারক: হাওজা নিউজ এজেন্সির বৈজ্ঞানিক-সাংস্কৃতিক বিভাগ
আপনার কমেন্ট